
বাণিজ্য ডেস্ক, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬: "ইকোসিস্টেম মৃত" কিংবা "জাহাজ ডুবছে"—ঢাকার স্টার্টআপ পাড়ায় ইদানীং এমন হতাশা শোনা গেলেও বাস্তবতা ভিন্ন। আসলে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলো মারা যাচ্ছে না, তারা কেবল ভুল মানচিত্র ধরে এগোচ্ছিল। গত এক দশকে সিঙ্গাপুর কেন্দ্রিক বিনিয়োগের যে জোয়ার ছিল, তা এখন স্তিমিত। উল্টোদিকে, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) কেন্দ্রিক জিসিসি (GCC) অঞ্চলে তৈরি হয়েছে বিশাল বিনিয়োগের বাজার।
কেন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (SEA) থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া? লাইটস্পিডের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৫ বছরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ৭২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হলেও রিটার্ন এসেছে হতাশাজনক। গ্র্যাব (Grab) বা গো-টোর (GoTo) মতো জায়ান্টদের শেয়ার দর আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। সেখানে প্রকৃত উচ্চবিত্ত গ্রাহক সংখ্যা মাত্র ১৬ মিলিয়ন। ফলে "যে কোনো মূল্যে প্রবৃদ্ধি"র মডেলটি সেখানে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
জিসিসি (GCC) অঞ্চলের উত্থান: > অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা (MENA) অঞ্চলে স্টার্টআপ বিনিয়োগ বেড়েছে ২২৫ শতাংশ। সৌদি আরবে ভিলেজ ক্যাপিটাল ফান্ডিং বেড়েছে ১৪৫ শতাংশ। ভিশন ২০৩০-এর অধীনে সৌদি আরব এখন আন্তর্জাতিক স্টার্টআপদের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশি স্টার্টআপের সফল স্থানান্তর: এই পরিবর্তন কেবল তাত্ত্বিক নয়। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বড় বিনিয়োগগুলো আসছে মধ্যপ্রাচ্য থেকে:
সিল্ক (SILQ): শপআপ ও সৌদি সারির (Sary) ১০০ মিলিয়ন ডলারের মার্জার।
পাঠাও: ভেনচারসুক (দুবাই ভিত্তিক) থেকে ১২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ।
মার্কোপোলো: সৌদি জোয়া ক্যাপিটাল থেকে ২ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ।
১০ মিনিট স্কুল: দুবাইয়ের কনজাংশন ক্যাপিটাল থেকে ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ।
উপসংহার: পাকিস্তান ইতিমধ্যেই জিসিসি বাজারকে তাদের নিজেদের বাজারের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের জন্যও এখন সময় এসেছে সিঙ্গাপুরের পুরোনো রুট ছেড়ে রিয়াদের দিকে নজর দেওয়ার।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।